শয্যা সঙ্গিনী হতে না চাওয়ায় মুসলিম শিক্ষকের রোষানলে দলিত শিক্ষিকা

বৃতি সুন্দর রায়ঃ শিক্ষক মানেই মানুষ তৈরির কারিগর। শিক্ষকের শেখানো আদর্শই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ছাত্রদের আদর্শবান আপোষহীন করে তোলে। একজন প্রকৃত শিক্ষকের শিক্ষাই ছাত্রছাত্রীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রতিবাদী করে তোলে।

ইদানিং শিক্ষকদের আচড়ন ভাবিয়ে তোলে গোটা সমাজকে। শিক্ষকের বিরুদ্ধে কন্যাসম ছাত্রীকে ধর্ষণ থেকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আকছার ওঠে। যা কিন্তু সমাজের পক্ষে যথেষ্ট ক্ষতিকর।

হুগলি জেলার শ্রীরামপুর-উত্তরপাড়া ব্লকের রাজ্যধরপুরের সিমলা হাইস্কুলের শিক্ষক তথা তৃনমূল শিক্ষা সেলের নেতা সদরুল মোল্লার বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে মারাত্মক অভিযোগ জমা করেছেন ওই স্কুলেরই দলিত সম্প্রদায়ের ভুগোলের শিক্ষিকা বিনিতা দাস। ওই শিক্ষিকার অভিযোগ, তিনি বাড়ুইপাড়া স্কুল থেকে সমঝোতা স্হানান্তরিত হয়ে সিমলা হাইস্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। ওই স্কুলে যোগ দেওয়ার পরেই শিক্ষক সদরুল মোল্লার নজরে পড়েন দলিত শিক্ষিকা বিনিতা দাস। ওই শিক্ষিকাকে নিজের শয্যা সঙ্গিনী হওয়ার জন্য বায়নাক্কা শুরু করে শিক্ষক সদরুল মোল্লা। প্রথমে সরাসরি ওই শিক্ষক ওই শিক্ষিকাকে শয্যা সঙ্গিনী হওয়ার প্রস্তাব দেয়। অধ্যাপক পত্নী ওই দলিত শিক্ষিকা শিক্ষক সদরুল মোল্লার ওই কুপ্রস্তাব পত্রপাঠ নাকচ করে দেয়।

এরপর ওই শিক্ষিকাকে মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে নানা ধরনের যৌন-অশ্লীল কথা বার্তা লিখে পাঠাতে শুরু করে। কখনও লেখে, ডানলপের সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যেতে। আবার কখনও লেখে, “কখন খাবো, কখন পাবো।” আবার বলে, “তোমার স্বামী যখন বাড়িতে থাকবে না, তখন আমি তোমার বাড়িতে যাবো একটুখানি স্ফূর্তি করতে।” ওই দলিত শিক্ষিকা সদরুল মোল্লার এমন কুপ্রস্তাবে স্তম্ভিত হয়ে যায়।

দলিত শিক্ষিকা বারেবারে এমন প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ওই শিক্ষক হুঙ্কার দিয়ে বলে, এই সিমলা স্কুলে নতুন যে শিক্ষিকাই যোগ দিক না কেন, সেই শিক্ষিকাকেই আমাকে তৃপ্ত করতে হবে।না হলে ওই শিক্ষিকার দফারফা করে দেব। শিক্ষক সদরুল মোল্লা আরও বলে, “এখানকার প্রধান শিক্ষক কাঠের পুতুল। আমার কথাই শেষ কথা।” দলিত শিক্ষিকা কে রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয় স্কুলে। শিক্ষক সদরুল মোল্লার ভয়ে ওই দলিত শিক্ষিকা তাঁর মোবাইল ফোন জামা কাপড়ের ভিতরে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু ধূর্ত শিকারি শিক্ষক তাঁর পেটোয়া কিছু শিক্ষিকাকে লেলিয়ে দিয়ে দলিত শিক্ষিকার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ ডেকে নিয়ে এসে ওই শিক্ষিকাকে শাষানি দেয় শিক্ষক নেতা সদরুল মোল্লা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে অত্যাচার শুরু হয় ওই শিক্ষিকার উপরে। এখনও থামেনি অত্যাচার। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে ওই কীর্তিমান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।ওই শিক্ষক তৃনমূল শিক্ষা সেলের নেতা হওয়ায় তদন্ত কমিটি আদৌও শিক্ষক সদরুল মোল্লার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট রহস্য দানা বেঁধেছে। সিমলা হাইস্কুলে এই ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে মারাত্মক ফাঁকিবাজি ধরা পড়েছে।

স্কুলের ছাত্র সংখ্যা দেখানো আছে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত দুশো। কিন্তু আদতে পনের থেকে কুরি জন ছাত্র উপস্থিত হয়। ব্যপক কারচুপিতে ঐতিহ্যশালী সিমলা হাইস্কুলে ঘুঘুর বাসা তৈরি করেছে শিক্ষক সদরুল মোল্লা।

এই ঘুঘুর বাসা না ভাঙা পর্যন্ত সিমলা হাইস্কুলের পঠন পাঠন শিকেয় তোলা থাকবে।
শিক্ষক মরে গেলেও শিক্ষকের আদর্শ বেঁচে থাকে ছাত্রদের মধ্যে। কিন্তু শিক্ষক যদি সদরুল মোল্লার মত এমন দুশ্চরিত্রের হয় তাহলে সেই শিক্ষককে কোনদিনও মনে রাখেনা ইতিহাস।।

যৌন_অশ্লীল TMC Teacher

Related posts

Leave a Comment