তরুনী বধূ বালিকা সেজে পকসোয় ফাঁসালো দলিত সাংবাদিককে

বৃতি সুন্দর রায়ঃ পকসো আইনের অপব্যবহার করে এক দলিত সাংবাদিককে জেলে পাঠালো জনৈকা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তরুনী বধূ। তবে সাংবাদিককে জেলে পাঠাতে রূপ বদল করল ওই তরুণী বধূ। বেমালুম তরুনী বধূর রূপ মুছে হয়ে গেল বালিকা। তরুনী বধূর কারসাজিতে ওই সাংবাদিক এখন জেল-কুঠুরিতে বন্দী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানা এলাকার আমঝড়া গ্রামে। এই ঘঠনায় তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে আমঝড়া গ্রামে।

ওই ঘটনার অন্তর্তদন্তে উঠে এসেছে রোমহর্ষক কাহিনী।

ওই ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২৩ নভেম্বর বাসন্তী থানার পুলিশ আমঝড়া গ্রামের বাড়ি থেকে অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক চন্দ্রশেখর সরকারকে গ্রেফতার করে।

সাংবাদিক চন্দ্রশেখর সরকার

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ -র ২ সেপ্টেম্বর নাকি ওই তরুণী বধূর শ্লীলতাহানি করে সাংবাদিক চন্দ্রশেখর সরকার। ২০১৯ -র ১০ জানুয়ারি সাংবাদিক চন্দ্রশেখর সরকারের বিরুদ্ধে ১৫৬(৩) ধারায় আদালতের নির্দেশে এফআইআর করে বাসন্তী থানা। আরও আশ্চর্যজনক ঘটনা হল, চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর সাংবাদিক চন্দ্রশেখর সরকারকে গ্রেফতার করে বাসন্তী থানার পুলিশ।

POCSO কেসের অভিযোগকারিণী তরুণী বধূ

সাজানো পকসো কেসের নজিরবিহীন তথ্য

পূর্ণাঙ্গ কোনো তদন্ত ছাড়াই সাংবাদিককে গ্রেফতার করলেন বাসন্তী থানার আইসি মহম্মদ আবদুর রব খান

কোনও রকম তদন্ত ছাড়াই বাসন্তী থানার পুলিশ চন্দ্রশেখর সরকারকে গ্রেফতার করে। কারণ, এই প্রতিবেদকের অন্তর্তদন্তে কিন্তু কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পরেছে। যে মহিলা, চন্দ্রশেখর সরকারের নামে বালিকা সেজে পকসো কেস করেছে। সেই মহিলা বালিকা নয়, সে সাবালিকা।

বাসন্তী থানার আমঝড়া গ্রামের লালচাঁদ নামে জৈনক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে পকসো মামলাকারি মহিলার। দু’বছর সংসারও করেছে ওই মহিলা। এরপরেও পকসো মামলা❓❓কেন পকসো মামলা❓❓

ওই মহিলার বাবা, সাংবাদিক চন্দ্রশেখর সরকারের থেকে ১৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত চাওয়াতেই বিপত্তি। নিজের বিবাহিত মেয়েকে বালিকা সাজিয়ে, সাংবাদিক চন্দ্রশেখর সরকারের নামে সাজানো পকসো মামলা করে। সেই সাজানো মামলাতেই সাংবাদিক চন্দ্রশেখর সরকার জেলবন্দী। সঠিক তদন্তের ক্ষেত্রে বাসন্তী থানার পুলিশ ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে রয়েছে। বাসন্তী থানার আইসি মহম্মদ আবদুর রব খান পূর্ণাঙ্গ কোনো তদন্ত ছাড়াই দলিত সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছেন। আইসির বক্তব্য, “তদন্ত দু’বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে”।

সূত্রের খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি তথা ক্যানিং (পূর্ব) বিধানসভার বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গেবাসন্তী থানার আইসি মহম্মদ আবদুর রব খানের খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সাংবাদিক মহলের অভিযোগ রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করেই, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়াই দলিত সাংবাদিক চন্দ্রশেখর সরকারকে গ্রেফতার করেছেন আইসি মহম্মদ আবদুর রব খান।

আইসি মহম্মদ আবদুর রব খান

এইভাবে পকসো’র মতো গুরুতর মামলাকে অপব্যবহার করে সাহসী ও নির্ভীক সাংবাদিকদের দমন-পীড়নের যে সূক্ষ্ম ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে, তাতে ভারতবর্ষে গণতন্ত্রের ভারসাম্য বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষরা ভারতবর্ষের আইনের প্রতি ভরসা-বিশ্বাস রাখতে পারছেন না।।

Related posts

Leave a Comment