ডিউটি অফিসারের ঘরে ঢুকিয়ে ফাইবার-রুলে ‘কেলিয়ে’ থার্ড ডিগ্রী চালু করল ভদ্রেশ্বর থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর কমল খান, রক্তাক্ত সাংবাদিক

গৌরাঙ্গ সাধুঃ নিজের স্বরূপ চেনালেন চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ভদ্রেশ্বর থানার অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব- ইন্সপেক্টর কমল খান।

রক্তাক্ত সাংবাদিক

থানার আইসি নয়, এক অভিযুক্তের “সুন্দরী” মায়ের নির্দেশে আদর্শ তিতুমীর পত্রিকার মুখ্য সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়কে ভদ্রেশ্বর থানায় তুলে এনে, ডিউটি অফিসারের ঘরে ঢুকিয়ে ফাইবার-রুলে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করে দিল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর কমল খান। সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়ের কোনও কথা না শুনেই বেপরোয়া কমল খান বৃতি সুন্দর রায়কে ফাইবার-রুল দিয়ে বেধড়ক পেটাতে পেটাতে বলতে থাকে, “শালা কেলিয়ে” তোর হাত-পা ভেঙে গুড়িয়ে দেব। কমল খানের নিরীহ সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়কে পেটানোর বীরত্বের দৃশ্য দেখে অভিযুক্তের “সুন্দরী” মা প্রতিমা সাহা ও তাঁর বান্ধবী কৃষ্ণা আচার্য থানায় বসে মুচকি হাসতে থাকে।

অভিযুক্তের “সুন্দরী” মা প্রতিমা সাহা

ওই দুই মহিলার মুচকি হাসি দেখে কমল খান আরও উৎসাহিত হয়ে সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়কে ফাইবার-রুল দিয়ে বেধড়ক লাঠিপেটা করতে থাকে। কমল খানের বেধড়ক মারে থানাতেই মূর্চ্ছা যায় সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়।

কীর্তিমান এসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর মহঃ কমল খান

বেগতিক বুঝে অভিযুক্তের ‘সুন্দরী’ মা প্রতিমা সাহাকে সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে লিখতে বলে। থানার মধ্যেই সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা যে ঠিক নয়, বুঝতে পারেন থানার সেকেন্ড অফিসার। তিনি ঘটনা সামাল দিতেই, থানা থেকে কেটে পড়ে ওই দুই মহিলা।

চক্রান্তকারী প্রতিমা সাহার সাগরেদ কৃষ্ণ আচার্য

ঘটনার সূত্রপাত, ২০১৯ সালে ২০ আগস্ট মধ্যরাতে ভদ্রেশ্বরের ভুয়ো দাঁতের ডাক্তার দেবু ঠাকুরের প্ররোচনায় মানকুন্ডু পালপাড়া বাজারের বাসিন্দা প্রতিমা সাহার ছেলে বিট্টু মদ্যপ অবস্থায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়ের ওপর চড়াও হয় তাঁকে খুন করার উদ্দেশ্যে।২০১৯ সালে ২১ আগস্ট সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিমা সাহার ছেলে বিট্টু ভদ্রেশ্বর থানার হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলে যায়। এক মাস জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পায়। এরপর প্রতিমা সাহা তার ছেলের হাজতবাসের বদলা নিতে চন্দননগরের বেশকিছু দোর্দণ্ড প্রতাপশালীদের সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়ের পেছনে লেলিয়ে দেয়। এখানেই শেষ নয়, এরপর প্রতিমা সাহা তার সাগরেদদের দিয়ে সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়ের চলাফেরার উপরে নজরদারি চালাতে থাকে।

চলতি বছরের জুন মাসের ২৮ তারিখ বিকাল ৬ টার সময়ে সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য ভদ্রেশ্বর পালবাগান জল ট্যাংকির নিকট ডঃ সি.সি.সি. রোডে যায়। সেই সময় সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়কে দেখতে পেয়ে প্রতিমা সাহা এবং তার সাগরেদ কৃষ্ণা আচার্য দুজনে মিলে সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়ের গেঞ্জির কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তার ধারে নিয়ে এসে বেধড়ক মারধর করতে থাকে এবং তার ছেলের নামে করা অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিতে থাকে। তার ছেলের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার না করে তাহলে সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়কে খুন করার হুমকিও দেয়। সেই রাস্তার উপরেই শারীরিক নির্যাতন করে ওই এলাকার লোকজনদের জড়ো করে ফেলে। এবং চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলতে থাকে, “এই সেই সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়, ভদ্রেশ্বরের দাঁতের ডাক্তার দেবু ঠাকুরের বিরুদ্ধে খবর করেছে”। সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়কে বলপূর্বক টানতে থাকে ওই মহিলার বাড়িতে যাওয়ার জন্য। এবং তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনও ভাঙার চেষ্টা করে।

এরপর প্রতিমা সাহার সাগরেদ কৃষ্ণা আচার্য তাদের পেটুয়া লোকদের ফোন করে ঘটনাস্থলের ডাকতে থাকে এবং তখনই ভদ্রেশ্বর থানায় ফোন করে কর্মরত ডিউটি অফিসার কমল খানকে বলে, অতিসত্বর পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়কে অ্যারেস্ট করা হোক।সেই কথামতো ভদ্রেশ্বর থানা থেকে একটি পুলিশ ভ্যান এসে সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়কে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় ভদ্রেশ্বর থানায়। সেই সময় পুলিশ ভ্যানে থাকা লেডি কনস্টেবলকে বৃতি সুন্দর রায় অনুরোধ করে তার সাথে ওই মহিলাকেও নিয়ে যাওয়া হোক।

সাংবাদিকের ওপর আক্রমণকারী প্রতিমা সাহা

সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়ের কথায় কর্ণপাত না করে পুলিশ ভ্যানটি সটান ভদ্রেশ্বর থানায় নিয়ে যায়। এবং পুলিশ অফিসার মহিলাকে ভদ্রেশ্বর থানায় এসে অভিযোগ করার কথা বলে।

ঘন্টাখানেক পর ওই দুই মহিলা থানায় আসে। অভিযুক্তের “সুন্দরী” মা প্রতিমা সাহা কর্মরত ডিউটি অফিসার মহঃ কমল খানের কানে কানে কিছু বলতে থাকে। সাংবাদিক বুঝতে পারে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। সেই দৃশ্য দেখতে পেয়ে কর্মরত অফিসারকে সাংবাদিকতার পরিচয় পত্র দেখিয়ে সত্য ঘটনার বিবরণ দিতে গেলে সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়ের উপরে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে কর্মরত অফিসার কমল খান। চেয়ার থেকে উঠে এসে ফাইবার-রুল দিয়ে সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়কে বেধড়ক লাঠিপেটা করতে থাকে। ঘটনার খবর পেয়ে আদর্শ তিতুমীর পত্রিকার নদীয়া জেলার সিনিয়র সাংবাদিক গৌরাঙ্গ সাধু ও অঞ্জলি সাধু ভদ্রেশ্বর থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ কৌশিক ব্যানার্জিকে ফোনে সমস্ত ঘটনাবলি জানায়।

আইসি কৌশিক ব্যানার্জি নিরপেক্ষতার সঙ্গে সমস্ত ঘটনাবলি বিবেচনা করে নিরীহ সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়কে রাত ১০ টাতে থানা থেকে মুক্ত করেন।

অভিযুক্তের “সুন্দরী” মা প্রতিমা সাহা তার সাগরেদ এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর কমল খানের নির্মম অত্যাচার এবং শারীরিক নির্যাতনের ফলে গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়। থানার মধ্যেই সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা জানানো হয়েছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের নগরপালকে। তিনি ওই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।

Related posts

Leave a Comment