বার কাউন্সিল সদস্য বর্ষিয়ান আইনজীবীকে বেধড়ক মার বারাকপুর আদালতে

বারাকপুরের বর্ষিয়ান আইনজীবি পিটুনিতে সন্দেহর মাথা কি সাংবাদিক পেটানো সেই ব্যক্তি, যাকে অনেকে বলেন ভুয়ো আইনজীবি!

সুরেন্দ্র কুমার সিংঃ ২০১৯ সালের ১১ জুলাইয়ের সেই দুপুরের কথা ভুলতে পারিনি আজও। সেদিন দুপুরেও ব্যারাকপুর আদালত চত্বরেই সন্দেহজনক আইনজীবী সিকান্দার আনসারির হাতে রক্তাক্ত হতে হয়েছিল ‘আদর্শ তিতুমীর পত্রিকা’র সম্পাদক ধৃতরাষ্ট্র দত্ত ও মূখ্য সাংবাদিক বৃতি সুন্দর রায়কে। ২০২২ সালের ৪ নভেম্বরে ব্যারাকপুর আদালত চত্বরেই ঘটে যাওয়া আরেক রক্তাক্ত ঘটনা নিতান্ত বাধ্য হয়েই আবার লিখছি।

আবার, কেননা এর আগেও ওই সন্দেহজনক আইনজীবী সিকান্দার আনসারির দৌরাত্ম্যের খবর লিখতে হয়েছিল। আজ আবারও তার প্রয়োজন হচ্ছে। সেদিনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ব্যারাকপুর আদালত চত্বরে। আজ ব্যারাকপুর আদালতের বর্ষিয়ান আইনজীবী তথা ব্যারাকপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে বেধড়ক মারধোর করার অভিযোগ উঠেছে সেই সন্দেহজনক আইনজীবী সিকান্দার আনসারির বিরুদ্ধে।

তৃণমূল প্রভাবিত আইনজীবী সেলের বর্ষিয়ান আইনজীবীকে আদালত চত্বরে মারধোরের ঘটনা জানাজানি হতেই আইনজীবী মহলে ছিছিক্কার পড়ে যায়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে,আইনজীবী হলেই কি সকলের মাথা কিনে নেওয়া যায়❓

আইনজীবী হলেই যে – কারওর বাবা – মা তুলে কুৎসিত ভাষায় খেউড় করে অবলীলায় তাকে মারধোর করা যায় কি❓কালোকোর্ট গায়ে চাপিয়ে যত বড় আইনজীবীই হোক, নিয়ম তার জন্যে কি আলাদা❓আইনজীবী পরিচয় পেলে সে কি নিয়মের বাইরে❓আইনজীবী পরিচয় পেলে আদালত কি সমস্ত ছাড় দিয়ে রেখেছে❓আদালত কি ধরে নিয়েছে, আইনজীবী অন্য গ্রহের জীব, তাই তার আচরণ বাকিদের সঙ্গে মিলবে না❓

এই ছাড় দিতে দিতে বিষয়টা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সিকান্দার আনসারির মত সন্দেহজনক আইনজীবীর সমস্ত রকমের অসভ্যতা, অন্যায় আর অপরাধকেও ছাড় দিতে শেখাচ্ছে আদালত। কেননা, তিনি যে আইনজীবী। তাই তিনি যা খুশি করতে পারেন। আদালত চত্বরে নোংরা অঙ্গভঙ্গি করতে পারেন, আদালতের মধ্যেই কাউকে অকারণ কিল চড় ঘুষি মারতে পারেন, প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দিতে পারেন। এবং এই ধারাবাহিক পরিকল্পিত অসভ্যতার প্রত্যেকটির পরে বুক ফুলিয়ে বলতে পারেন, ‘বেশ করেছি’।কেননা সিকান্দার আনসারিরা জানেন, আদালত দুর্বল। কারন আদালতের একজন বিচারপতিও ঘুরে দাঁড়িয়ে বলবে না, সিকান্দার আনসারি আপনি অন্যায় করেছেন। আইনজীবীর পোশাক পড়েছেন বলে আদালত চত্বরে কাউকে মারধোর করবার অধিকার আদালত আপনাকে দেয়নি।

এমন জঘণ্য আচরণের জন্য সন্দেহজনক আইনজীবী সিকান্দার আনসারিদের আদালতের বিচারকরা কখনও চোখ রাঙায়না, আঙুল তুলে খাঁচায় বন্দী করার নির্দেশ দেয়না। তাই সিকান্দার আনসারির মত অর্ধশিক্ষিতরা আইন পেশাকে খুল্লমখুল্লা কলঙ্কিত করার সাহস দেখায়। অন্য যে – কেউ যা করলে চূড়ান্ত শাস্তি পেত। কিন্তু সিকান্দার আনসারির মত সন্দেহজনক আইনজীবীরা কোনও শাস্তি তো পায়না বরং আইনজীবীদের একাংশ সিকান্দার আনসারিদের রক্ষা করতে বলে ওঠে, একটু আধটু ওরকম হয়। তাই তো সিকান্দার আনসারিরা আদালত চত্বরেই সাংবাদিকদের রক্তাক্ত করে শাস্তি না পেয়ে, বর্ষিয়ান আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে বেধড়ক মারধোর করবার সাহস দেখাতে পারে অবলীলায়।

এদিন ঠিক ঘটেছিল❓ব্যারাকপুর আদালতের পঞ্চম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কক্ষে একটি মামলা চলছিল। মামলা চলাকালীন আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের সঙ্গে সন্দেহজনক আইনজীবী সিকান্দার আনসারির কথা কাটাকাটি হয়।এরপরেই আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ফিরে যায় তাঁর আদালত চত্বরে থাকা সেরেস্তায়।তখন সন্দেহজনক আইনজীবী সিকান্দার আনসারি পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে তার সেরেস্তায় ঢুকে বেধড়ক মারধোর করে বলে অভিযোগ।

কে এই সন্দেহজনক আইনজীবী সিকান্দার আনসারি❓এই সিকান্দার আনসারির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে ব্যারাকপুর আদালতে। এমনকি জগদ্দল থানার এক সাব ইন্সপেক্টরের সই জাল করে এক কুখ্যাত অপরাধিকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার মত মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে।নিগৃহীত আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঘটনার কথা প্রকাশিত হোক চাইনা,। আমি ওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব”।

সংবাদ মাধ্যম গনতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তাই যখন আইনের মত মহান পেশাকে ইচ্ছাকৃত অভব্যতায় পর্যবসিত করা হয়, তখন তাকে প্রকাশ্যে আনা ছাড়া উপায় থাকে না। পরিকল্পনা মাফিক আইনের মন্দির আদালতকে কলঙ্কিত করবার নায়কদের মুখোশ খুলে দেওয়া জরুরি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চলতি বছরের মাস কয়েক আগে চন্দননগর আদালত চত্বরে, বিচারকের ঘরের মধ্যে চন্দননগর আদালতের সন্দেহজনক আইনজীবী উজ্জল চক্রবর্তী আরেকজন আইনজীবী অভিজিৎ লায়েক কে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করে। এই উজ্জ্বল চক্রবর্তী বিভিন্ন বিত্তশালী মানুষদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দুর্নীতি জাল বুনেছে জেলায় জেলায়, তারই বিরুদ্ধে সত্যের জন্য লড়তে আসা বরিষ্ঠ আইনজীবী অভিজিৎ লায়েক কে ওকালতি করতে বাধা দেওয়ার জন্যই তাকে মাটিতে ফেলে মারধর করে। বর্তমানে যে ঘটনা আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় আছে।

যাতে ভবিষ্যতে এই ধরণের অন্যায় করার আগে দু’বার ভাবে। বারাকপুর আদালতে রক্তাক্ত আরও অনেকেই। বারাকপুর আদালত চত্বরকে বারে বারে রক্তাক্ত করার কালোয়ার সিকান্দার আনসারির মত সন্দেহজনক আইনজীবীর গুন্ডামির কথা আবার তুলে ধরার দায়িত্ব নিল এ যুগের “তিতুমীর”।

Related posts

Leave a Comment