সেক্সচক্রের বাংলাদেশি নায়িকার মৌতাতের প্রচুর খদ্দের, নিমতা-বিরাটির বাড়িতে

সেক্স চক্রে যুবককে ফাঁসিয়ে ৩৫ লাখ হাতিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারিনী যুবতী উত্তর দমদমে, নেপথ্যে কোন পার্টনার??

ধৃতরাষ্ট্র দত্তঃ আইন আছে। আছে সীমান্তে পুলিশি নজরদারি। কিন্তু তা সত্বেও বাংলাদেশের সেক্স চক্রের নায়িকা সুস্মিতা দাস কিভাবে এ রাজ্যের উত্তর দমদমের বিরাটিতে ঘাঁটি গাড়লেন?? কিভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও এ রাজ্যের ভোটার লিস্টে নাম তুললেন?? কিভাবে করলেন ভারতীয় আধার কার্ড?? গ্রেফতার হওয়ার পর আদালত থেকে কোন যাদুকাঠির ছোঁয়ায় জামিন পেলেন??

ঘটনার সূত্রপাতঃ স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। তাই বিবাহবিচ্ছেদও ঘটেছিল ইংল্যান্ড প্রবাসী চিকিৎসক উৎপলেন্দু বিশ্বাসের। এর ফলে সেই সময় তিনি নিঃসঙ্গতা, নিস্তব্ধতা এবং শূন্যতায় ভুগতে থাকেন। ঠিক সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ার ফেসবুকে উৎপলেন্দু বিশ্বাস দেখা পায় ২৫ বছরের যৌবনবতী সুস্মিতা দাসের। এমন মনোহারিণী প্রতি উৎপলেন্দু আকর্ষিত হয়। ফেসবুকেই আলাপ হয় সুস্মিতা দাসের সঙ্গে। উৎপলেন্দু লক্ষ্য করে সুস্মিতা পায়ের ছন্দে ছন্দে নিতম্বে কাঁপন ওঠে। তার দিকে তাকালে উৎপলেন্দু সর্বপ্রথম নজর পড়ে যায়, তার বক্ষদেশের সারঙ্গীযুগল। উৎপলেন্দু রাতভর জেগে নিজের চেয়ে সুস্মিতার কথা ভেবে চলে বেশি।

সুস্মিতা দাসের বাড়ি বাংলাদেশের জমিদারপাড়া, মুন্সীগঞ্জের সদরে। তার বাবা নাম প্রয়াত বাবুল চন্দ্র দাস। মায়ের নাম শ্রীমতি কাজল দাস। সোশ্যাল মিডিয়ার হোয়াটসঅ্যাপে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে উৎপলেন্দু ও সুস্মিতার সঙ্গে। হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট ও ভিডিও কলিং এ সুস্মিতার শরীরের সঙ্গে শরীর সংস্থাপনের উদ্দীপনাও উৎপলেন্দুকে উদ্বেলিত করে। তার দেহ-মন যৌবনকে ঘিরে রয়েছে সুস্মিতা। হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাটিং এ উৎপলেন্দু টের পায় তার শরীরের সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকা কোনও যৌবনগন্ধা স্ত্রী-শরীরের শয়ন। তার মনে অনুভূত হয়, তার কাঁধে সুস্মিতার কাঁধের কোমল স্পর্শ। কিংবা তাঁর গায়ের সঙ্গে ঢিসিয়ে থাকা সুস্মিতার বুকের আমিষ উষ্ণতা। সুস্মিতার চনমনে গলায় ডাক শুনে বিভোর হয়ে যায় উৎপলেন্দু। যখন-তখন এমন দরাজ আহ্বান আর কজনা জানায়?

সুস্মিতার প্রেমে উষ্ণ নিঃশ্বাসের স্পর্শ অনুভব করে উৎপলেন্দু। তার মনে হলো নারী এই সুসারীই তার স্বর্গদার। স্বর্গের কল্পনায় নারী এতটাই অনিবার্য। যার পর নাই শরীরের জাগরণে, আবেগের আধিক্যে তার মনে হতে লাগলো ‘নারী যেখানে নেই, স্বর্গ তা নয়’। এই কমল ও সুমদ অনুভূতিময় মুহূর্তে সে এটা ভাবতে চায় না যে, ‘নারী যেখানে নেই, নরকও সেখানে নেই। তুমি নারী, তুমি তেজ, তুমিই শক্তি, তুমি একাধারে স্বর্গ ও নরকের রক্ষীবিহীন মহাফটক’।

সুস্মিতার ফোনের প্রেম উৎপলেন্দু নির্জন রাতে আঙিনায়, খাটে বসে পূর্ণিমার চাঁদের পানে একাকী তাকিয়ে ঢের আনন্দ পায়। সুস্মিতা টের পায় উৎপলেন্দু তার প্রেমে মজে উঠেছে। চিত্রনাট্যে আরেকটু প্রেম নিয়ে আসে সুস্মিতা ফোনেই। সুস্মিতা ফোনেই উৎপলেন্দুকে বলতে থাকে, আমাকে চুম্বন কর! আমাকে দিশাহীন কর! মুছিয়ে দাও আমার চোখের উদ্বেল অশ্রু! ফোনেই সুস্মিতার বেপরোয়া উগ্র কথোপকথনের ফলে উৎপলেন্দু আর কোনো কিছুতেই মানতে চায় না। সুস্মিতার প্রেমের নাটক একেবারেই ধরতে পারেনা উৎপলেন্দু। সে সুস্মিতাকে বলতে থাকে, তার প্রথম স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় সেদিন নদীর বুকে ঝাঁপিয়ে মরতে চেয়েছিলাম। কি আশ্চর্য! আজ আবার তোমাকে পাওয়ার অপ্রতিরোধ্য উপচীয়মান আনন্দেয় ঝাঁপ দিতে ইচ্ছে হচ্ছে। উহ!!!

এবার সুস্মিতার ঝুলি থেকে বেড়াল বার করতে শুরু করে। চিকিৎসক উৎপলেন্দু বিশ্বাসকে সেক্স চক্রে ফাঁসিয়ে নানা অছিলায়, উৎপলেন্দুকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশের একটি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ২০২০ -র ১৫ মার্চ থেকে ২০২১ এর ৪ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপলেন্দু থেকে মোট ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১৪১ টাকা হাতিয়ে নেয়। আরও নানা রকমের উপহার নিয়ে ৩০ লাখ হাতানোর পরে উৎপলেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ ফোনে বন্ধ করে দেয়। দ্বিতীয়বার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে উৎপলেন্দু মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। খুঁজতে শুরু করে তাঁর ভালবাসার মানুষ সুস্মিতাকে। বাংলাদেশ জমিদারপাড়া সদর মুন্সিগঞ্জের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে সুস্মিতার খোঁজ করে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, সুস্মিতার গোটা পরিবার বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়েছে ভারতে।

এবার সুস্মিতার খোঁজ করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ে। ২০২০ -এর ১২ জুলাই বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট করে সুস্মিতা দাস, তাঁর মা কাজল দাস ও তার দুই ভাই দীপ্ত দাস এবং প্রদীপ দাস। এই প্রদীপ দাস আবার নাবালক। যে বাংলাদেশী পাসপোর্ট গুলির মেয়াদ রয়েছে ২০২৫ এর ১১ জুলাই। সুস্মিতা দাসের বাংলাদেশী নতুন পাসপোর্ট নম্বর- EG0219600, পুরনো পাসপোর্ট নম্বর- BJ0798548, কাজল দাসের বাংলাদেশী পাসপোর্ট করা হয় ২০২০ -র ১৬ আগস্ট মেয়াদ রয়েছে। ২০২৫ -র ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশী পাসপোর্ট নম্বর নতুন- EG0639303, পুরনো- BM0671685। দীপ্ত দাসের বাংলাদেশী পাসপোর্ট অনুমোদন হয় ২০২০ -র ১৬ আগস্ট। নতুন পাসপোর্ট নম্বর- EG0640131, পুরনো- BJ0798555, পাসপোর্ট এর মেয়াদ রয়েছে ২০২৫ -এর ১৫ আগস্ট। প্রদীপ দাস বাংলাদেশী পাসপোর্ট নম্বর- EG0639306, পাসপোর্ট অনুমোদিত হয় ২০২০ -র ১৬ই আগস্ট, মেয়াদ রয়েছে ২০২৫ -র ১৫ আগস্ট। পুরনো পাসপোর্ট নম্বর- BJ0798554।

এই প্রতিবেদকের হাতে যে তথ্য রয়েছে, তাতে স্পষ্ট সুস্মিতা দাস, কাজল দাস, দীপ্ত দাস ও প্রদীপ দাস এই চারজনই বাংলাদেশী নাগরিক। অন্তর্তদন্তে আরও জানা যায়, উৎপলেন্দুর ৩০ লাখ হাতানোর পরেই ওই চারজন বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্টে ভারতে, পশ্চিমবঙ্গের, উত্তর দমদম বিধানসভা এলাকায় এসে বিশাল বাড়ি বানিয়ে ভোটার লিস্টে নাম তুলে দিব্যি ভারতীয় সেজে, প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে সুখী জীবন যাপন করছে। অথচ পেট্রোপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকার যে নথি, তাতে কিন্তু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ২০২১ -এর ২০ এপ্রিল ভারতের বনগাঁ পেট্রোপোল সীমান্ত দিয়ে ভোর ৫টা ১২ মিনিট থেকে ৫ টা ১৪ মিনিটের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করে অনুপ্রবেশকারীরা। ২০২১ সালে বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে এসে উত্তর দমদম বিধানসভার ২০২১ -এর ১ নভেম্বর থেকে ২০২২ -এর ৫ জানুয়ারি ভারতীয় নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত ভোটার লিস্টে নাম রয়েছে দীপ্ত কুমার দাস, পিতা বাবুল চন্দ্র দাসের, যার নম্বর -১২৪৭, কার্ড নম্বর- XVM 2392934।

প্রশ্ন উঠে, একই সাথে সুস্মিতা দাস, কাজল দাস, দীপ্ত দাস, প্রদীপ দাস বাংলাদেশ আবার ভারতের নাগরিক হয় কি করে? প্রশ্ন আরও অনেক আছে, সুস্মিতাকে খুঁজতে উৎপলেন্দু উত্তর দমদমে এলে, তাঁকে সোনারপুরে নিয়ে গিয়ে খুনের চেষ্টা কারা করেছিল?? উৎপলেন্দুর টাকায় বিরাটিতে কেনা বিশাল বাড়িতে এখন কারা বসবাস করছে?? সুস্মিতার সেক্স চক্রে আর কোনও পুরুষ ফেঁসেছে কিনা??

উত্তর দমদমে সুস্মিতাদের শেল্টারের নায়ক কে?? সুস্মিতা কিভাবে তাঁর শরীরের সৌন্দর্য্য দেখিয়ে বিত্তশালীদের ফাঁসায়?? বাংলাদেশী নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও আদালত কেন তাদেরকে বাংলাদেশে না পাঠিয়ে জামিন দিয়ে দেয়?? সরকারি আইনজীবীই বা বাংলাদেশীদের জামিনের বিরোধিতা করে না কেন?? এখন সুস্মিতারা কোথায় গা ঢাকা দিয়ে আছে?? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এই প্রতিবেদক। বাংলাদেশী সুস্মিতা দাসকে উত্তর দমদমে শেল্টারের নেপথ্যে কোন পার্টনার রয়েছে?? জানতে হলে আগামী সংখ্যায় লক্ষ রাখুন।

কিভাবে বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও এ রাজ্যের ভোটার লিস্টে নাম তুললেন?? কিভাবে করলেন ভারতীয় আধার কার্ড?? গ্রেফতার হওয়ার পর আদালত থেকে কোন যাদুকাঠির ছোঁয়ায় জামিন পেলেন??

নিজে একা নয় সঙ্গে রয়েছে মা ও দুই ভাই‚ তারাও বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে ঢুকে কিভাবে তারা সকলেই ভারতীয় নাগরিক হয়ে গেলেন?? বাংলাদেশী সেক্স চক্রের নায়িকা সুস্মিতা দাস কে নাগরিকত্বের জন্য জাল নথি তৈরি করে দেওয়ার নেপথ্যে কে??

এ নিয়েই অন্তর্তদন্ত শুরু করেছে আদর্শ তিতুমীর পত্রিকার সম্পাদক-সাংবাদিক ধৃতরাষ্ট্র দত্ত। যে তদন্তে উঠে এসেছে রোমাঞ্চকর ও বিস্ফোরক তথ্য। যে তথ্য সমৃদ্ধ সংবাদ ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে আদর্শ তিতুমীর পত্রিকা ও লাইভ তিতুমীর ওয়েব পোর্টালে। আজ প্রকাশিত হল প্রথম কিস্তি– (ক্রমশ)

Related posts

Leave a Comment